
ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশেষ করে চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রধান পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি ফিড ইউনিটে সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সমস্যাটি দেখা দেয় ১০ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে।
ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রটি থেকে গড়ে প্রায় ৭৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধানও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৯০৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময়ে ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ মেগাওয়াট।
পিডিবি জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি মেরামতের আগে সেটিকে ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এরপর মেরামতের কাজ শুরু করা যাবে। সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গোড্ডা কেন্দ্রের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে এটিই প্রথম বড় ধরনের সরবরাহ-বিঘ্ন নয়। এর আগে ভারতের রেলপথে জটিলতার কারণে কেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় কম ছিল। আদানি পাওয়ার তখন জানিয়েছিল, কয়লা পরিবহন ও লোডিং-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন সমন্বয় করতে হয়েছে এবং সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে, প্রতিটির স্থাপিত ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির মোট প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট। বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলে এই কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নজিরও রয়েছে।
ফলে একটি ইউনিটের এই অচলাবস্থা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে চাহিদার সময়ে ঘাটতি পূরণে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বাড়তি উৎপাদনে যেতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা এখন মূলত নজর রাখছেন গোড্ডার বন্ধ ইউনিটটি কত দ্রুত সচল করা যায় এবং এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের ঘাটতি কীভাবে সামাল দেওয়া যায়—সেদিকে।