
ফেনী প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফেনীর সদর উপজেলার রানীরহাট এলাকার ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড পুনরায় চালু অথবা সেখানে আধুনিক ও টেকসই টেক্সটাইল/শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখের চিঠিতে বলা হয়, ফেনী-২ সংসদীয় আসনের রানীরহাট (কাজিরবাগ) এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দোস্ত টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড পুনরায় চালু করা অথবা ওই স্থানে আধুনিক ও টেকসই টেক্সটাইল/শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য এমপি জয়নাল আবদিন আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
দোস্ত টেক্সটাইল মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় বিশাল শিল্প স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি PPP কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রানীরহাটে অবস্থিত মিলটির জমির পরিমাণ প্রায় ২১ দশমিক ৪৭ একর। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (BTMC) আওতাধীন এ প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিকায়ন করে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও আগে নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়ভাবে একসময় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র ছিল দোস্ত টেক্সটাইল মিল। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাগো নিউজের প্রতিবেদন জানায়, মিলটি একসময় শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ঠিকানা ছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে আশপাশে হাট-বাজার ও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রও গড়ে ওঠে। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন না হওয়া এবং দীর্ঘদিন লোকসানের পর মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সরকারি PPP কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, দোস্ত টেক্সটাইল মিলের জায়গায় আধুনিক শিল্প স্থাপন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে Public-Private Partnership (PPP) পদ্ধতিতে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রকল্পটি বর্তমানে উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে বলে সরকারি তথ্যের সর্বশেষ আপডেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালেও দোস্ত টেক্সটাইল মিলকে পুনরায় কর্মমুখর করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) আওতায় পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কর্মশালায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এদিকে ২০২৫ সালের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে মিলটির ব্যবস্থাপকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মিলের পুরোনো যন্ত্রপাতি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে এবং জমি শিল্প খাতে ব্যবহারের প্রক্রিয়াও চলছিল। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় শুধু পুরোনো কাঠামো সচল করার পাশাপাশি সেখানে আধুনিক ও টেকসই শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফেনীর ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, দোস্ত টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু করা গেলে কিংবা এর বিশাল জায়গায় আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে রানীরহাটসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি ফিরতে পারে।
এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে দীর্ঘদিনের বন্ধ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ।