বিশেষ প্রতিনিধি
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক জাতীয় সভাগৃহ অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘নেপালের বৃহত্তম সঙ্গীত প্রতিযোগিতা’। রবিবার (২৪ আগস্ট ২০২৫) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সঙ্গীতমুখর এই আয়োজনকে ঘিরে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ। নেপালের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে আগত প্রতিযোগীরা একে একে মঞ্চে এসে তাদের সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শক ও বিচারকদের মুগ্ধ করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভরে ওঠে করতালিতে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশীয় ব্যবসা অংশীদারিত্ব সম্মেলনের নির্বাহী পরিচালক ও অগ্রগামী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: গোলাম ফারুক মজনু। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে তাকে হাতে সম্মাননা তুলে দেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। উপস্থিত দর্শকরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি দীর্ঘ করতালিতে তাকে অভিবাদন জানান।
প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: আয়োজকদের মতে, এ প্রতিযোগিতা কেবল নেপালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এখান থেকে নির্বাচিত প্রতিভাবান শিল্পীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের পরিচিতি ঘটানোর সুযোগ পাবেন। প্রতিযোগিতার মহাসমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নগরীতে। সেখানে চূড়ান্ত বিজয়ীরা নগদ অর্থ পুরস্কার, একটি ফ্ল্যাট এবং গাড়ি লাভের অনন্য সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আয়োজন কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট করা, সুস্থ বিনোদনে সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথ সুগম করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে নেপালের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, সঙ্গীত হলো এমন এক মাধ্যম যা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, ইতিবাচক শক্তি জোগায় এবং সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে নিতে এবং সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে মো: গোলাম ফারুক মজনু বলেন- সঙ্গীত মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে, মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং বিশ্বমানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের প্রতিভাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রতিযোগিতা নেপালের তরুণ শিল্পীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করবে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। গান, নৃত্য, করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল জাতীয় সভাগৃহ। প্রতিযোগীদের পরিবেশনা এবং অতিথিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করেছে আরও প্রাণবন্ত। আয়োজকদের বিশ্বাস, এই আয়োজন ভবিষ্যতে নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।