ফেনী প্রতিনিধি,
ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা একটি সড়ক নিজ অর্থায়নে সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক হোসেন। এতে স্বস্তি ফিরেছে ওই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল হাজী ভূঁইয়া বাড়ির সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে পানি জমে কাদায় পরিণত হতো। ফলে প্রতিদিন শতাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের কাদা ও জমে থাকা পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হতো। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষও প্রতিদিনের যাতায়াতে নানা ভোগান্তির শিকার হতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার আওতাধীন এই সড়কটিতে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরেও উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসে মোহাম্মদ তারেক হোসেনের। পরে তিনি নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটিকে চলাচলের উপযোগী করে তোলার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, সড়কটি পৌরসভার মধ্যে হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এখানে তেমন কোনো কাজ হয়নি। বছরের পর বছর মানুষ কষ্ট করে চলাচল করেছে। তারেক হোসেন নিজ অর্থায়নে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য আমরা তার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় বাসিন্দা নিসাদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়, কাদা হয়ে যায়। সেই কাদা পেরিয়েই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর। তারেক ভাই মানুষের এই দুর্ভোগ বুঝতে পেরে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।
আরেক বাসিন্দা মীর হোসেন বলেন, মোহাম্মদ তারেক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। মানুষের বিপদ-আপদে তাকে আমরা পাশে পাই। তার এই উদ্যোগ তার মানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই, ভবিষ্যতে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার সুযোগ পান।
স্থানীয় তরুণ জিসান বলেন, তারেক হোসেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি নিজেও এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন। যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ তার কাছে গেলে সহযোগিতা পান। আমরা চাই, ভবিষ্যতে তিনি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার সুযোগ পান।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন নারী বাসিন্দাও সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় মোহাম্মদ তারেক হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় তাদের কষ্ট অনেকটাই কমেছে। এ সময় তারা তারেক হোসেনের জন্য প্রাণভরে দোয়া করেন এবং ভবিষ্যতেও যেন তিনি মানুষের পাশে থাকতে পারেন—সেই কামনা করেন।
মোহাম্মদ তারেক হোসেন বলেন, মানুষের কষ্ট দেখলে আমার ভালো লাগে না। এই সড়ক দিয়ে মানুষ কীভাবে কষ্ট করে চলাচল করছে, বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আর বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ অর্থায়নে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছি। এখানে অনেক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। তারা যখন স্বস্তি পান এবং মন থেকে দোয়া করেন, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আমার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান। ভবিষ্যতেও আমি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই।
স্থানীয়দের মতে, একটি জনবহুল এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের চলাচলের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুজাহিদুল ইসলাম জাবের, যোগাযোগ: ০১৬৪৭২৫৭০৬১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত