নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ফেনীতে সাংবাদিক জসিম ফরায়েজিকে মারধর, পিস্তল দেখিয়ে হত্যার হুমকি এবং গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক পৌর কাউন্সিলর খালেদ খানকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে শহরের পাঠানবাড়ি সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খালেদ খান মহিপালে ছাত্র-জনতার ওপর গুলির ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামিও বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিক জসিম ফরায়েজি জিটিভির ফেনী জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক আলোকিত গণমাধ্যমের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বর্তমানে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সাংবাদিক জসিম ফরায়েজির অভিযোগ, বুধবার বিকেলে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পাঠানবাড়ি সড়কে মোমিন জাহান মসজিদ অতিক্রম করে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে প্রবেশের আগে একটি প্রাইভেটকার দিয়ে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এরপর গাড়ি থেকে সাবেক কাউন্সিলর খালেদ খান, এমরান হোসেন, চালক ও তাঁদের আরেক সহযোগী নেমে তাঁকে মারধর করেন। পরে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি গলির ভেতরে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে খালেদ খান পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে খালেদ খান তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং এমরান হোসেন একটি রশি এনে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে দেন। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে পুলিশও সেখানে আসে বলে জানান জসিম ফরায়েজি।
সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ফেনীর বিভিন্ন অপরাধ, সহিংসতা, অস্ত্র প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন বলে জানান জসিম ফরায়েজি। জসিম ফরায়েজি বলেন, খালেদ খানের বিরুদ্ধে মহিপালে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই সাংবাদিক। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগে উল্লেখ করা পিস্তল, প্রাইভেটকার ও রশি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম খালেদ খানকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী মামলা করতে এলে অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুজাহিদুল ইসলাম জাবের, যোগাযোগ: ০১৬৪৭২৫৭০৬১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত