বিশেষ প্রতিনিধি, ফেনী: গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে চায় মিশন বাজার এগ্রো ফুড এন্ড নিউট্রিশন লিমিটেড। কৃষি, পর্যটন, খাদ্য ও পুষ্টি খাতে বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, “গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সম্পদ, মানুষের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। মিশন বাজার সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করতে চায়।”
রোববার (১ নভেম্বর) কোম্পানির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে কোম্পানির বিভিন্ন সেলস ইউনিটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ। সঠিক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করা গেলে এই জনসম্পদই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। মিশন বাজার শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, দক্ষ মানবশক্তি তৈরি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করতে চায়।
মিশন বাজারের বিশেষ প্রকল্প ‘মাটির টান এগ্রো ইকো রিসোর্ট’ বাস্তবায়িত হচ্ছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরলক্ষ্মী এলাকায়। প্রায় এক হাজার শতাংশ জমিতে গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি, প্রকৃতি ও আধুনিক পর্যটনের সমন্বয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী এগ্রো ইকো রিসোর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটিতে মাটির ঘর, কুঁড়েঘর, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, কৃষি খামার, মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগির খামার এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্পটিকে শুধু পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং কৃষি, খামার ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তা বিকাশের একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং সুবর্ণচরের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
মিশন বাজারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সুপার মার্কেট, এগ্রো ফুড, পুষ্টি ও প্রাকৃতিক খাদ্য এবং এগ্রো ইকো ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে একজন মানুষ নিজের সফলতার পাশাপাশি আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। একজন উদ্যোক্তার সফলতা যেন আরও অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণ হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি সততা, নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস, পেশাদারত্ব ও দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মিশন বাজারের প্রত্যাশা, দক্ষ মানবসম্পদ, নতুন উদ্যোক্তা এবং কৃষি ও পর্যটনভিত্তিক উদ্যোগের সমন্বয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মুজাহিদুল ইসলাম জাবের, যোগাযোগ: ০১৬৪৭২৫৭০৬১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত